বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি মেগা প্রকল্প হচ্ছে মেট্রোরেল, যেটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বলাবাহুল্য, রাজধানীবাসীর জন্য মেট্রোরেল ভবিষ্যতে এক আশীর্বাদরূপে আবির্ভূত হবে ।

এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণত জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ তা মেনেও নেন। তবে সদিচ্ছা আর সঠিক কর্মপরিকল্পনা থাকলে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করাও সম্ভব। মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য মিরপুর ১২ থেকে রোকেয়া সরণি হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। মিরপুরের মতো ব্যস্ত রাস্তায় সাধারণভাবেই এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজট। তার ওপর গণপরিবহনের এলোমেলো চলাচল, যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো, নির্ধারিত স্টপেজে না দাঁড়িয়ে যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ইত্যাদির ফলে যানজট বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প চলাকালীন মূল সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউই এ নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। বিকল্প রাস্তা থাকলেও মূল সড়কে দেদার চলছে রিকশা-ভ্যান। কর্তৃপক্ষ কিছু জায়গায় রিকশা-ভ্যানের নিষেধাজ্ঞার কথা ব্যানারে টাঙিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন।

মাঠ পর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে (ফায়ার সার্ভিসের সামনে) কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে ৫-১০ টাকা দিলেই চলাচল করতে দিচ্ছে রিকশা, সবজির ভ্যানসহ সবই। যেন দেখার কেউই নেই।

এ এলাকার ফুটপাতের অবস্থা আরও নাজুক। পুরো ফুটপাতই যেন এক অঘোষিত ভাসমান কাপড়, ফলমূল আর নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাজার! কিছুদিন পর পর ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটপাতগুলো।

আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় সংকুচিত রাস্তার অধিকাংশ অংশ। সংকুচিত সড়ক, যানজট, জলাবদ্ধতা, চলাচলের অনুপযোগী ফুটপাত আর মেট্রোরেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ মিরপুরকে এক বিভীষিকাময় স্থানে পরিণত করেছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × four =